
মোর্শেদা আক্তার: নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং উত্তর চাষাড়া এলাকায় জোরপূর্বক অসহায়ের বসতবাড়ি জবর- দখল, তালা ভেঙে মালামাল লুটপাট এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুলতান মাহমুদ (৪৩) নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, সুলতান মাহমুদের স্ত্রী আয়শা আক্তার ডলি প্রায় ১৪ মাস আগে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই তার স্ত্রীর নামীয় হোল্ডিংভুক্ত বাড়ি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা।
অভিযুক্তরা হল, আনসার আলী (৬৫), তার স্ত্রী মানসুরা রুমা (৪৩) এবং ইসমত আরা রুমা (৫৮)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগীর মৃত স্ত্রীর ভাই ও ভাবি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা তার অনুপস্থিতিতে বাড়ির গেট ও বসতঘরের তালা ভেঙে স্বর্নাংকারসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং নতুন তালা লাগিয়ে দিয়ে জবর-দখল করে এবং তার যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা উল্টো হুমকি ও খারাপ আচরণ করে বলে অভিযোগে বলা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়, বসতঘরের ভেতরে থাকা তার ব্যবসায়িক প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং তার মৃত স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কারসহ ও নগদ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর সুলতান মাহমুদ নিজ বাড়িতে বসবাস করতে না পেরে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর মরহুম স্ত্রীর ছোট ভাই মুনসুর আলীর (বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী) পৈত্রিক সম্পত্তি এবং বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থও জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ১নং অভিযুক্ত আনসার আলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অতীতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে, যা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে সুলতান মাহমুদ বলে, আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছি।
নারায়ণগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোর্শেদা আক্তার 















