
সাদিয়া জাহান: “আমি আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলব, বলতেই থাকব”-এই কথাগুলি বলেছে মনিরা শারমিন।তার ফেসবুকের পিন পোস্ট তোলে ধিরা হল:-
গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক চরিত্র দেখার সুযোগ পেলাম। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সেক্রেটারি হিসেবে আমি জোটের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম। অন্যান্য দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারিও উপস্থিত ছিলেন।
চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ তার জন্য সংরক্ষিত আসন ছেড়ে দিয়ে আমাকে বসতে বললেন কারণ, অতিরিক্ত চেয়ার ছিল না। কে যেন একটা চেয়ার এনে দিলে তিনি দূরে বসলেন। অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, একটা নারীবিবর্জিত হল রুম। স্বাভাবিকভাবেই যেহেতু সেখানে কোন নারী ছিল না, খানিকটা ইতস্তত লাগছিলো। তবে সেখানে সকলেই বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মী, আমিও একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম।
মনে মনে ভাবছিলাম, মঞ্চে উপবিষ্ট এই আমাকে দেখে বাংলাদেশের নারীরা রাজনীতি করার সাহস পাবে। রাজনীতি মানে রাজনীতি। যোগ্যতা বিচারে যদি আমি যদি গুরুত্বপূর্ণ হই, আমার সাথে বসতে হবে বৈকি! লৈঙ্গিক পরিচয় বিবেচনায় আমাকে বাতিলের খাতায় ফেলা যাবে না। আমি বাংলাদেশের ৫১% জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেছি।
ঐক্যবদ্ধ জোট যেহেতু আদর্শিক জোট নয়, আর এনসিপিও কোন আদর্শিক রাজনীতি করে না, ফলত এনসিপির পক্ষ থেকে নারী সদস্য সংবাদ সম্মেলনে থাকবে- এটা অস্বাভাবিক কিছু না।
কিন্তু আসল চিত্র দেখলাম, প্রেস কনফারেন্স থেকে বের হয়ে। এহেন গালিগালাজ নাই যা আমার জন্য ব্যবহৃত হয় নি। এটা অত্যন্ত দু:খজনক। তবে আমি ভয় পাই না। আজকে আমার এই অবস্থান আমার নিজের যোগ্যতায় অর্জন করা। গালিগালাজে আমি দমে যাবার মানুষ নই।
নারীদের রাজনীতিতে আসতে হবে। তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই আসতে হবে। ফতোয়া জারি করে নারীদের পিছিয়ে রাখার সুযোগ নাই। যারা ৫১% জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করার কথা ভাবে ও রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখে, তাদের আকাশ-কুসুম কল্পনা দেখে আমার করুণা হয়।
আমি আপনার প্রতিনিধি হয়ে কথা বলব, বলতেই থাকব, কিন্তু জায়গা ছাড়ব না। হয়ত এই যাত্রায় আমি একা, কিন্তু ইতিহাস বিচার করবে আমি ঠিক পথে ছিলাম কিনা।
সাদিয়া জাহান 















