Dhaka 5:20 am, Thursday, 11 December 2025

ঐতিহ্যবাহী  শিক্ষানুরাগী পরিবারের উত্তরসূরি মাহাদী হাসান

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:56:29 pm, Tuesday, 11 November 2025
  • 192 Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঐতিহ্যবাহী  শিক্ষানুরাগী পরিবারের উত্তরসূরি, একাধারে কৃতি শিক্ষার্থী, বীর পিতার সন্তান,  সব পরিচয়কে ছাপিয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে মাহাদী হাসান ওয়াজ করনী। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এই কৃতি শিক্ষার্থী মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ (সর্বোচ্চ নম্বর) অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সকলের কাছে। তার এই ঈর্ষণীয় সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে বইছে বাঁধভাঙা আনন্দের বন্যা।

মাহাদী হাসান ওয়াজ করনী হল: নারায়ণগঞ্জ কলেজের সাবেক নির্বাচিত ভিপি, বীর সৈনিক মশিউজ্জামান পাবেল এবং আজমেরী জাহেরা ইভার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার সাফল্যের শিকড় প্রোথিত হয়েছে এক গৌরবময় পারিবারিক ঐতিহ্যে। মাহাদী মরহুম হাবিবুর রহমান (একাউন্টস্ অফিসার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও মরহুমা হোসনে আরা বেগম (প্রধান শিক্ষিকা-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়)-এর সুযোগ্য নাতি এবং কমান্ডার আজহার হোসেন কমিশনার ও মমতাজ আজহার-এর মেয়ের বড় ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ সদরের একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মাহাদী কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে।

মাহাদীর এই সাফল্য তার পিতা ভিপি মশিউজ্জামান পাবেলের এক গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। পিতা পাবেল ছিল নারায়ণগঞ্জ কলেজের নির্বাচিত ভিপি। কলেজের সেই উত্তাল সময়ে ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে সে নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিল। তার অদম্য সাহসিকতা আর আত্মত্যাগের ফলেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন পেয়েছিল।

কেবল সন্ত্রাস দমন নয়, ভিপি পাবেল কলেজের উন্নয়নেও রেখেছিল ঐতিহাসিক অবদান। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন অধ্যক্ষ এম. হোসাইন স্যার (সংসদের সভাপতি) এবং ভিপি পাবেল (সহ সভাপতি) সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা নিয়ে বিজ্ঞান ভবন নির্মাণসহ আরও বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। এই সময়ের মধ্যে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন বইয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত ২৭ লক্ষ টাকা ছাত্র-ছাত্রী সংসদের তহবিলের সম্মতিক্রমে কলেজের উন্নয়নের জন্য দান করা হয়েছিল।

বীরের উত্তরাধিকারী মাহাদী হাসান ওয়াজ করনী তার এই অসাধারণ ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি ভবিষ্যতে একজন সফল পেশাজীবী হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখে।

পিতা মশিউজ্জামান পাবেল ও মাতা আজমেরী জাহেরা ইভা তাদের সন্তানের এই গৌরবময় সাফল্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছে। তাদের প্রত্যাশা, তাদের সন্তানের মেধা ও কঠোর পরিশ্রম দেশের উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সকলে আশা করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ঐতিহ্যবাহী  শিক্ষানুরাগী পরিবারের উত্তরসূরি মাহাদী হাসান

Update Time : 06:56:29 pm, Tuesday, 11 November 2025

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঐতিহ্যবাহী  শিক্ষানুরাগী পরিবারের উত্তরসূরি, একাধারে কৃতি শিক্ষার্থী, বীর পিতার সন্তান,  সব পরিচয়কে ছাপিয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে মাহাদী হাসান ওয়াজ করনী। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এই কৃতি শিক্ষার্থী মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ (সর্বোচ্চ নম্বর) অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সকলের কাছে। তার এই ঈর্ষণীয় সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে বইছে বাঁধভাঙা আনন্দের বন্যা।

মাহাদী হাসান ওয়াজ করনী হল: নারায়ণগঞ্জ কলেজের সাবেক নির্বাচিত ভিপি, বীর সৈনিক মশিউজ্জামান পাবেল এবং আজমেরী জাহেরা ইভার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার সাফল্যের শিকড় প্রোথিত হয়েছে এক গৌরবময় পারিবারিক ঐতিহ্যে। মাহাদী মরহুম হাবিবুর রহমান (একাউন্টস্ অফিসার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও মরহুমা হোসনে আরা বেগম (প্রধান শিক্ষিকা-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়)-এর সুযোগ্য নাতি এবং কমান্ডার আজহার হোসেন কমিশনার ও মমতাজ আজহার-এর মেয়ের বড় ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ সদরের একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মাহাদী কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে।

মাহাদীর এই সাফল্য তার পিতা ভিপি মশিউজ্জামান পাবেলের এক গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। পিতা পাবেল ছিল নারায়ণগঞ্জ কলেজের নির্বাচিত ভিপি। কলেজের সেই উত্তাল সময়ে ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে সে নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিল। তার অদম্য সাহসিকতা আর আত্মত্যাগের ফলেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন পেয়েছিল।

কেবল সন্ত্রাস দমন নয়, ভিপি পাবেল কলেজের উন্নয়নেও রেখেছিল ঐতিহাসিক অবদান। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন অধ্যক্ষ এম. হোসাইন স্যার (সংসদের সভাপতি) এবং ভিপি পাবেল (সহ সভাপতি) সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা নিয়ে বিজ্ঞান ভবন নির্মাণসহ আরও বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। এই সময়ের মধ্যে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন বইয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত ২৭ লক্ষ টাকা ছাত্র-ছাত্রী সংসদের তহবিলের সম্মতিক্রমে কলেজের উন্নয়নের জন্য দান করা হয়েছিল।

বীরের উত্তরাধিকারী মাহাদী হাসান ওয়াজ করনী তার এই অসাধারণ ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি ভবিষ্যতে একজন সফল পেশাজীবী হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখে।

পিতা মশিউজ্জামান পাবেল ও মাতা আজমেরী জাহেরা ইভা তাদের সন্তানের এই গৌরবময় সাফল্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছে। তাদের প্রত্যাশা, তাদের সন্তানের মেধা ও কঠোর পরিশ্রম দেশের উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সকলে আশা করে।