
আবু সালেহ : বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এখানকার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের পক্ষে কাজ করছে বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মীরা।
যেখানে কাসেমীর পক্ষে অবস্থান করছে ওয়ান ম্যান শো খ্যাত বিএনপির ৩ নেতা, যারা আবার বহিরাগত। যাদের মধ্যে ২ জন বরিশালের বাসিন্দা, ১ জন কুমিল্লার বাসিন্দা। ভোটের মাঠে ফতুল্লায় তাদের কোনো গ্রহণ যোগ্যতা নেই বললেই চলে। কাসেমীর সঙ্গে আরেকজন বিতর্কিত ব্যক্তি থাকলেও সে আয় রোজগারের সেক্টর নিয়ন্ত্রণে ওস্তাদ হলেও ভোটের মাঠে তারও কোনো গ্রহণ যোগ্যতা নেই। ফলে কাসেমী তার জয়ের পথ এখনো তৈরি করতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থী দেয়নি।
এখানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। কাশেমী খেজুর গাছ প্রতীক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। একইভাবে এ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিল কিন্তু না পেয়ে সে রিপাবলিকান বাংলাদেশের হাতি প্রতীকে প্রার্থী হয়েছে।
এ ছাড়াও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাদেরকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করা হয়। তবে বহিষ্কারের পরেও তারা নির্বাচনে অটুট রয়েছে। তাদের পক্ষেই রয়েছে বিএনপির গ্রহণযোগ্য নেতাকর্মীরা। কাসেমীকে মনোনিত করার পর থেকে কাসেমীর প্রতি নারাজ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা কাসেমীকে এমপি হিসেবে দেখতে চায় না। যে কারনে তারা শাহআলম ও গিয়াসের দিকে ঝুকছে নেতাকর্মীরা।
গিয়াসের পক্ষে আছে ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মোল্লা, সাংগঠিনক সম্পাদক হাসান আলী, আলমগীর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন খন্দকার, হাসান মোহাম্মদ পলাশ, বিল্লাল হোসেন, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহামুদ সহ উল্লেখযোগ্য বেশকজন নেতা। শাহআলমের পক্ষে আছে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান খোকা, জেলা বিএনপির সদস্য নাদিম হাসান মিঠু, একরামুল কবির মামুনের মত আরো বহু শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। মুলত এই আসনে বিএনপির সবচেয়ে বেশি নেতাকর্মী আছে শাহআলমের সাথে।
অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে টানতে পারছে না মনির হোসাইন কাসেমী। এখানে থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভুঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদারই এখন তার একমাত্র ভরসা। কিন্তু টিটু ও রুহুল আমিন বরিশালের বাসিন্দা। ভাসমান এই দুই ব্যক্তির ভোটের মাঠে কোনো গ্রহণ যোগ্যতা নাই। তারা কাসেমীকে ভোটে কোনো সহযোগীতা করতে পারবে না। একই দশা কুমিল্লার বাসিন্দা আব্দুল বারী ভুঁইয়ার। আইনজীবী হওয়ার সুবাধে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করে ছিল গিয়াস উদ্দীন। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করে এই ৩ নেতা কাসেমীকে ১ হাজার ভোট সংগ্রহ করে দেয়ার মত যোগ্যতা রাখে না ফতুল্লায়। যে চাঁদাবাজিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলে কাসেমীর হাত ধরে বহিষ্কার প্রত্যাহার পেয়েছে সেই ব্যাক্তি। ফতুল্লার আয় রোজগারের সেক্টর নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী হলেও ভোটের মাঠেও তারও অবস্থান শূণ্য। এই অবস্থায় কাসেমীর পরাজয় সন্নিকটে বলে মনে করছে বিএনপির কর্মীরা।
মনির হোসেন কাশেমী জয় লাভের আশা নিয়েই জোটের সমর্থিত প্রার্থি হয়ে নির্বান করছে। তবে জয় চলেও আসতে পারে যদি আওয়ামী লীগের কর্মী ও ভোটারদের ভোট পায় কাশেমী।
আবু সালেহ 















