
আখি খান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী খুনি হাসিনাকে বৈধতা ও আওয়ামী লীগকে পুর্নবাসনে সময় টিভির গোপন এজেন্ডা, নেপথ্যে সিটি গ্রুপ।
শেখ হাসিনার দুঃশাসনের সময় তার বৈধতা দিতে সকল ধরণের তথ্য সন্ত্রাস করেছিল সময় টিভি। উত্তর পাড়ার স্ক্রিপ্ট হুবহু প্রকাশ করা, বিএনপি জামায়াতের নেতাদের বিভিন্নভাবে অ্যাটাক করাসহ এমন কোন কাজ নাই যে সময় টিভি করে নাই। মূলত এসব তথ্য সন্ত্রাসের নেপথ্যের মূল কারিগর ছিল “সময়” টিভিতে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান “সিটি গ্রুপ”, যারা সব সময় থেকেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
মো: হাসান। সিটি গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের একমাত্র ছেলে। আওয়ামী আমলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী গ্রুপগুলোর মধ্যে সিটি গ্রুপ প্রথম সারিতে থাকলেও হাসানের চতুরতা এবং ম্যানেজ করার দক্ষতার কারণে সিটি গ্রুপ ধীরে ধীরে তৈরি করেছে অন্ধকারের রাজত্ব। এস আলম, মেঘনা, নাবিল, বসুন্ধরাসহ বড় বড় কোম্পানিগুলোর নাম ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে মিডিয়াতে আসলেও টাকার বিনিময়ে সিটি গ্রুপের সকল দালালি এবং অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে হাসান গং।
বহুল সমালোচিত সময় টিভির ৭৫ ভাগ মালিকানা থাকায় গ্রুপটি বিভিন্নভাবে “সময়” টিভির মাসল পাওয়ার কাজে লাগিয়ে আওয়ামীলীগের সর্বোচ্চ তাবেদারি করেছে। বিনিময়ে বাগিয়ে নিয়েছে রমজান মাসে ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন খাদ্য পন্যের ইচ্ছা মত দাম বাড়ানোর অপার স্বাধীনতা, যার মাধ্যমে কোন রকম জবাবদিহি ছাড়াই হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে সিটি গ্রুপের হাসান। এছাড়াও শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে উপহার হিসেবে পেয়েছে তিনটি ইকোনোমিক জোন।
১. নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জে সিটি ইকোনিমিক জোন,
২. পূর্বগাও ইকোনোমিক জোন
৩. এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় হোসেন্দি ইকোনোমিক জোন
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ঠিক কয়েক মাস আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে হাসান, সিটি গ্রুপ এবং নিউ সাগরনাল টি কোং লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডিং, সাগরনাল হ্যাচারী ও ফিশারীজ লিমিটেডের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতারণা করে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে হাসান ও তার মা হামিদা রহমানের নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়। “সময়” টিভির ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় হাসান এবং তার সকল অপকর্মের সহযোগী সিটি গ্রুপের কর্মকর্তা, ”র” এর এজেন্ট বিশ্বজিত সাহা। এই বিশ্বজিত সাহাও ভারতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে কথিত আছে। ২০১৯ সালে এই বিশ্বজিত সাহা ভারতের দমদম এলাকায় একাধিক মার্কেট এবং সম্পত্তি ক্রয় করে। এছাড়া কানাডায় বিশ্বজিত সাহার রয়েছে অঢেল সম্পত্ত্বি।
৫ আগস্টের পর যখন ছাত্র জনতা নতুন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছিল, তখন “সময়” টিভি হয়ত সঠিক পথে হাঁটবে এটাই মনে হয়েছিল। কিন্তু তা হয়ে উঠেনি। “সময়” টিভি নিয়ে নতুন খেলায় মেতেছে সিটি গ্রুপের হাসান। নতুন বাংলাদেশে সাবেক কুখ্যাত মন্ত্রী অ্যাভোকেট কামরুল ইসলামের আপন ভাই নাস্তিক মোরশেদুল ইসলামকে দিয়েছে টিভির দায়িত্ব। এই নাস্তিক মোরশেদুল ইসলামের নামে যাত্রাবাড়ি থানায় গণহত্যার মামলা আছে। অভ্যুত্থানের পর একজন এজাহারভুক্ত গণহত্যার আসামি কিভাবে দায়িত্ব পালন করছে? এই মোশেদুল ইসলাম ও সময় টিভির ডেস্ক ইনচার্জ আওয়ামী দালাল এবং শাহবাগী নাস্তিক আতিকুর রহমান তমাল, আরেক নাস্তিক নিউজ এডিটর জনি মিলে টেলিভিশনটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে এখন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর খুনী হাসিনা পালিয়ে গেলেও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের নেপথ্যের নায়ক সিটি গ্রুপ, মোরশেদুল ইসলামরা এখনো গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে যা সম্পূর্ণ জুলাই চেতনার পরিপন্থী।
আমরাও দেখতে চাই এই সরকার খুনিদের কতক্ষণ পাহারা দেয়। শহিদের মায়েরা এখনো লাশের জন্য কাঁদে। ১১৪ লাশ গণকবরে। কিন্তু যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত তারা নানাভাবে জুলাইয়ের রক্ত, জুলাইয়ের শহিদদের বিতর্কিত করে যাচ্ছে।
ইন্টারিম! সতর্ক করছি, যত্র দ্রুত সম্ভব সিটি গ্রুপের হাসান ও এর গং-দের আইনের আওতায় আনুন। তাদের দুদকের মামলাসহ অন্য সকল অপরাধের যথাযথ তদন্ত এবং শাস্তি নিশ্চিত করুন, অন্যথায় শহিদ পরিবার এবং আহতরা তাদের হিস্যা বুঝে নিবে। ছাত্রজনতা প্রতিটি রক্তের বদলা নেবে। তখন কোনো মাসল পাওয়ার কাজে আসবে না।
Reporter Name 



















