
আবু সালেহ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন কাশিপুর দেওভোগ নাগবাড়ী মোড়ে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে রায়হান খান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
১লা জানুয়ারি বুধবার সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ফারুকের ফলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত রায়হান খান মৃত বিল্লাল খানের ছেলে। তার মায়ের নাম রেখা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর সদর থানাধীন বহরিয়া এলাকায় বাসা করে। সে বর্তমানে ফতুল্লা থানাধীন তাঁতীবাড়ি এলাকায় ইয়াসিন চৌধুরীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত।
পুলিশ সূত্রে, সকাল বেলা ৯৯৯ নম্বরে কল ও স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি টিম এসআই রফিক (বিপিএম)-এর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে রায়হানকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, নিহত রায়হান হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিল। সে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এবং তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল বলেও জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৭টার দিকে রায়হান স্থানীয় এক গ্যারেজ মালিকের কাছ থেকে ১,৫০০ টাকা চাঁদা নেয়। পরে একটি হোটেলের কর্মচারীর কাছে ৫,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করলে কর্মচারী দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রায়হান বাসা থেকে একটি দা এনে ঐ কর্মচারীকে মারধর করে। এ সময় উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে রায়হানকে ঘিরে ধরে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এসআই রফিক নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আবু সালেহ 


















