Dhaka 8:47 am, Tuesday, 10 February 2026

পাগলার রসূলপুর এলাকার মূর্তিমান আতংক হযরত গাজী! 

সাদিয়া জাহান : বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পাগলার বৃহত্তর রসুলপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাজুড়ে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে হযরত গাজী। অভিযোগ রয়েছে, সে ফোন কলে নিজেকে “হযরত” পরিচয়ে পরিচয় দিয়ে থাকে এবং যুবদলের সভাপতি মাসুম আহাম্মেদ রাজকে তাঁর চাচাতো ভাই দাবি করে সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রসুলপুরে নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ, জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয় কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে হলে হযরত গাজী ও তাঁর চাচাতো ভাই মাসুম আহাম্মেদ রাজকে চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা রকম হয়রানি, বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হতে হয়, অভিযোগে পুলিশ নীরব ভুমিকায়। এতে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে উক্ত সন্ত্রাসী ও চাদাঁবাজ চক্রের নিকট। সর্বশেষ ইট, সিমেন্ট, রড ও বালুর ব্যবসায়ী আল-আমিনের ওপর হামলার অভিযোগ এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে হযরত গাজী ও তাঁর সহযোগীরা আল-আমিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়, মারধর করে, দোকান ভাঙচুর করে এবং নগদ অর্থ লুটপাট করে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, বিএনপি এখনো ক্ষমতায় না থাকলেও যুবদল নেতা মাসুম আহাম্মেদ রাজ ও তাঁর ভাই হযরত গাজীর কথিত কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী ইতোমধ্যেই অতিষ্ঠ। অভিযোগ রয়েছে, দুই ভাই মিলে জায়গা-জমি দখল, চাঁদাবাজি, জুয়ার আসর, এলাকায় গ্যাস সিন্ডিকেট এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের পেছনে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর আর্শীবাদ ও শেল্টার রয়েছে বলেই তারা এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এমন আশঙ্কাও করছে স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর শঙ্কা, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটলে এই প্রতিহিংসা ও নির্যাতন আরও বেড়ে যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করবে। এই প্রেক্ষাপটে রসুলপুরবাসীর জোর দাবী, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের এসব অভিযোগের অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের স্বার্থে সাধারণ মানুষের ওপর চলমান এই প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sadaia jahan

পাগলার রসূলপুর এলাকার মূর্তিমান আতংক হযরত গাজী! 

Update Time : 07:46:46 am, Saturday, 17 January 2026

সাদিয়া জাহান : বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পাগলার বৃহত্তর রসুলপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাজুড়ে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে হযরত গাজী। অভিযোগ রয়েছে, সে ফোন কলে নিজেকে “হযরত” পরিচয়ে পরিচয় দিয়ে থাকে এবং যুবদলের সভাপতি মাসুম আহাম্মেদ রাজকে তাঁর চাচাতো ভাই দাবি করে সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রসুলপুরে নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ, জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয় কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে হলে হযরত গাজী ও তাঁর চাচাতো ভাই মাসুম আহাম্মেদ রাজকে চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা রকম হয়রানি, বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হতে হয়, অভিযোগে পুলিশ নীরব ভুমিকায়। এতে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে উক্ত সন্ত্রাসী ও চাদাঁবাজ চক্রের নিকট। সর্বশেষ ইট, সিমেন্ট, রড ও বালুর ব্যবসায়ী আল-আমিনের ওপর হামলার অভিযোগ এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে হযরত গাজী ও তাঁর সহযোগীরা আল-আমিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়, মারধর করে, দোকান ভাঙচুর করে এবং নগদ অর্থ লুটপাট করে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, বিএনপি এখনো ক্ষমতায় না থাকলেও যুবদল নেতা মাসুম আহাম্মেদ রাজ ও তাঁর ভাই হযরত গাজীর কথিত কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী ইতোমধ্যেই অতিষ্ঠ। অভিযোগ রয়েছে, দুই ভাই মিলে জায়গা-জমি দখল, চাঁদাবাজি, জুয়ার আসর, এলাকায় গ্যাস সিন্ডিকেট এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের পেছনে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর আর্শীবাদ ও শেল্টার রয়েছে বলেই তারা এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এমন আশঙ্কাও করছে স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর শঙ্কা, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটলে এই প্রতিহিংসা ও নির্যাতন আরও বেড়ে যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করবে। এই প্রেক্ষাপটে রসুলপুরবাসীর জোর দাবী, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের এসব অভিযোগের অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের স্বার্থে সাধারণ মানুষের ওপর চলমান এই প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।