Dhaka 10:14 pm, Wednesday, 11 February 2026

পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:44:04 am, Wednesday, 1 October 2025
  • 276 Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর থানার ওসি সহ ০৩ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে রাজনৈতিক মামলায় জড়িত করিয়া ব্যাপক হয়রানির অভিযোগে সিএমপির পুলিশ কমিশনার বরাবর ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করার সংবাদ পাওয়া যায়।
‎‎চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আফতাব উদ্দিন সহ ০৩ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুত্বর অভিযোগ এনেছেন এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী । রেহেনা আরজুমান নামে ওই নারী ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সিএমপি কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগে তার স্বামী মোঃ রাশেদুল করিমকে একটি রাজনৈতিক মামলায় অহেতুক ফাঁসানো এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হয়রানী করার অভিযোগ তুলেছেন।
‎অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামী মোঃ রাশেদুল করিমের ৬ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় দায়ের করা বন্দর থানার মামলা নং ০৪(০২)২০২৫ এর আসামীদের পক্ষ নিয়ে বন্দর থানার ওসি আফতাব উদ্দিন, মামলার বাদী এসআই মোঃ শাহ জালাল চৌধুরী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফয়সাল আলম যোগসাজশ করেছেন।

‎যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:- ‎রেহেনা আরজুমানের অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্বামী মোঃ রাশেদুল করিমের পারিবারিক সম্পত্তি ও ভাড়াঘর এবং দোকান জবর দখলের কু-উদ্দেশ্যে স্থানীয় মোঃ মহিউদ্দিন (আওয়ামী লীগের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত) গং ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ বিষয়ে রাশেদুল করিম গত ১১/০২/২০২৫ তারিখে বন্দর থানার মামলা নং ০৪(০২)২০২৫ দায়ের করেন। এই মামলা দায়েরের পর আসামীরা বন্দর থানার ওসি আফতাব উদ্দিনসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রেহেনা আরজুমানের।

‎অসত্য তথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ:- ‎অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, রাশেদুল করিমের মামলার আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে, বেআইনীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বন্দর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা রাশেদুল করিমকে হয়রানি শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৬/০৯/২০২৫ তারিখে এসআই মোঃ শাহজালাল চৌধুরীর রুজুকৃত একটি ‘রাজনৈতিক’ মামলায় (বন্দর থানার মামলা নং ১২(৯)২০২৫) ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও রাশেদুল করিমকে হয়রানী করার কু-উদ্দেশ্যে ৪৮ নং আসামী করা হয়।

‎গ্রেপ্তার ও মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ:- ‎রেহেনা আরজুমানের দাবি, তার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও তাকে রাজনৈতিক মামলায় জড়িত করিয়া হয়রানি করা হচ্ছে। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফয়সাল আলমের মাধ্যমে গত ২২/০৯/২০২৫ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৯:৪০ মিনিটে রাশেদুল করিমকে হালিশহর থানাধীন ২৫নং ওয়ার্ডের বড়পুল মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত আবেদীন ফার্মেসীর সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের সময় ফরওয়ার্ডিংয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অসত্য তথ্য প্রদান করেন। ফরওয়ার্ডিংয়ে বলা হয়, আসামী রাশেদুল করিমকে বন্দর থানাধীন ভেন্ডার চৌধুরী পাড়া এলাকা হতে রাত ১০:৫০ ঘটিকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অসত্য তথ্য প্রদান এবং গ্রেপ্তারের স্থান পরিবর্তন করে দেখানোর বিষয়টি নিয়েও অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীনি জানান, তার স্বামীকে হালিশহর থেকে গ্রেপ্তারের ভিডিও ফুটেজ অনেকের নিকট সংরক্ষিত আছে, যাহা তদন্তের সময় সরবরাহ করা হবে। ‎ভুক্তভোগী রেহেনা আরজুমান সিএমপি কমিশনারের নিকট আবেদন জানিয়েছেন, তার স্বামীর দায়েরকৃত মামলার আসামীদের সহায়তাকারী উপরোক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।‎ সিএমপি কমিশনার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sadaia jahan

পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ

Update Time : 05:44:04 am, Wednesday, 1 October 2025

নিজস্ব প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর থানার ওসি সহ ০৩ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে রাজনৈতিক মামলায় জড়িত করিয়া ব্যাপক হয়রানির অভিযোগে সিএমপির পুলিশ কমিশনার বরাবর ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করার সংবাদ পাওয়া যায়।
‎‎চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আফতাব উদ্দিন সহ ০৩ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুত্বর অভিযোগ এনেছেন এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী । রেহেনা আরজুমান নামে ওই নারী ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সিএমপি কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগে তার স্বামী মোঃ রাশেদুল করিমকে একটি রাজনৈতিক মামলায় অহেতুক ফাঁসানো এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হয়রানী করার অভিযোগ তুলেছেন।
‎অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামী মোঃ রাশেদুল করিমের ৬ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় দায়ের করা বন্দর থানার মামলা নং ০৪(০২)২০২৫ এর আসামীদের পক্ষ নিয়ে বন্দর থানার ওসি আফতাব উদ্দিন, মামলার বাদী এসআই মোঃ শাহ জালাল চৌধুরী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফয়সাল আলম যোগসাজশ করেছেন।

‎যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:- ‎রেহেনা আরজুমানের অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্বামী মোঃ রাশেদুল করিমের পারিবারিক সম্পত্তি ও ভাড়াঘর এবং দোকান জবর দখলের কু-উদ্দেশ্যে স্থানীয় মোঃ মহিউদ্দিন (আওয়ামী লীগের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত) গং ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ বিষয়ে রাশেদুল করিম গত ১১/০২/২০২৫ তারিখে বন্দর থানার মামলা নং ০৪(০২)২০২৫ দায়ের করেন। এই মামলা দায়েরের পর আসামীরা বন্দর থানার ওসি আফতাব উদ্দিনসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রেহেনা আরজুমানের।

‎অসত্য তথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ:- ‎অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, রাশেদুল করিমের মামলার আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে, বেআইনীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বন্দর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা রাশেদুল করিমকে হয়রানি শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৬/০৯/২০২৫ তারিখে এসআই মোঃ শাহজালাল চৌধুরীর রুজুকৃত একটি ‘রাজনৈতিক’ মামলায় (বন্দর থানার মামলা নং ১২(৯)২০২৫) ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও রাশেদুল করিমকে হয়রানী করার কু-উদ্দেশ্যে ৪৮ নং আসামী করা হয়।

‎গ্রেপ্তার ও মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ:- ‎রেহেনা আরজুমানের দাবি, তার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও তাকে রাজনৈতিক মামলায় জড়িত করিয়া হয়রানি করা হচ্ছে। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফয়সাল আলমের মাধ্যমে গত ২২/০৯/২০২৫ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৯:৪০ মিনিটে রাশেদুল করিমকে হালিশহর থানাধীন ২৫নং ওয়ার্ডের বড়পুল মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত আবেদীন ফার্মেসীর সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের সময় ফরওয়ার্ডিংয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অসত্য তথ্য প্রদান করেন। ফরওয়ার্ডিংয়ে বলা হয়, আসামী রাশেদুল করিমকে বন্দর থানাধীন ভেন্ডার চৌধুরী পাড়া এলাকা হতে রাত ১০:৫০ ঘটিকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অসত্য তথ্য প্রদান এবং গ্রেপ্তারের স্থান পরিবর্তন করে দেখানোর বিষয়টি নিয়েও অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীনি জানান, তার স্বামীকে হালিশহর থেকে গ্রেপ্তারের ভিডিও ফুটেজ অনেকের নিকট সংরক্ষিত আছে, যাহা তদন্তের সময় সরবরাহ করা হবে। ‎ভুক্তভোগী রেহেনা আরজুমান সিএমপি কমিশনারের নিকট আবেদন জানিয়েছেন, তার স্বামীর দায়েরকৃত মামলার আসামীদের সহায়তাকারী উপরোক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।‎ সিএমপি কমিশনার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।