Dhaka 5:57 am, Thursday, 11 December 2025

“প্রিয়তমেষু” ফারাহ্ শারমিনের স্বরচিত কবিতা

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:39:09 pm, Sunday, 9 November 2025
  • 32 Time View

প্রিয়তমেষু
ফারাহ্ শারমিন

অতঃপর পৃথিবী নিঃশব্দ হয়ে যায়।
সমুদ্র শান্ত, ঢেউয়ের আর কোনো উন্মাদনা নেই।
বাতাস হেঁটে যায় নরম মাটির উপর দিয়ে,
কোনো পাতা নড়ে না।
রোদ ঝরে পড়ে প্রতিদিনের মতোই —
না বেশী উজ্জ্বল, না কম মলিন।
চাঁদ ওঠে, সূর্য নামে, ঘড়ির কাঁটা ঠিকঠাক ঘুরে,
তবুও কোথাও এক জায়গায় কিছু যেন হারিয়ে যায়।

তারা হয়তো এখনো হাঁটে দু’জন,
দু’জনার ছায়া পাশাপাশি পড়ে —
কিন্তু ছায়ার ভিতর আর কায়া থাকে না।
তাদের কথাগুলো থেমে গেছে কোনো এক অনুচ্চারিত বাক্যের শেষে, যেখানে “থাকো” আর “ফিরে আসো”এর মাঝখানে জমে আছে অসংখ্য নীরবতার স্তর।

একদিন হঠাৎ দেখা মেলে কোনো পুরোনো দরজায়,
বাতাসে ভেসে আসে পরিচিত গন্ধ —
শিউলি ফুলের, কফির, অথবা ভেজা কাগজের।
তখন মনে হয়, তারা ছিল, তারা আছে,
শুধু সময়ের অন্য পাশে,
যেখানে হাত বাড়ালেও সময়ের স্পর্শ পাওয়া যায় না।

আমরা শিখে যাই তখন —
ভালোবাসা কখনও শেষ হয় না,
শুধু জায়গা বদলায়।

ভালোবাসা আদতে থেকে যায় বুকের ভেতর কোনো গোপন লোহার সিন্দুকে –
যার চাবি আমরা হারিয়ে ফেলি ইচ্ছে করেই।
ওখানে থাকে তাদের হাসি, চোখের জল,
অলিখিত চিঠি, না-পাঠানো ক্ষমা,
আর এক পলক দেখতে চাওয়ার অসমাপ্ত আকুতি।

আমরা সবাই শেষ পর্যন্ত
নিজ নিজ শিউলি বৃক্ষতলায় আটকে যাই —
নিজস্ব নীরবতার ভেতর যেখানে কেউ ফেরে না আর।

তবুও কিছু থাকে,
যা অদৃশ্য, অমোচনীয়,
চিরস্থায়ী ভালোবাসার রূপে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

“প্রিয়তমেষু” ফারাহ্ শারমিনের স্বরচিত কবিতা

Update Time : 04:39:09 pm, Sunday, 9 November 2025

প্রিয়তমেষু
ফারাহ্ শারমিন

অতঃপর পৃথিবী নিঃশব্দ হয়ে যায়।
সমুদ্র শান্ত, ঢেউয়ের আর কোনো উন্মাদনা নেই।
বাতাস হেঁটে যায় নরম মাটির উপর দিয়ে,
কোনো পাতা নড়ে না।
রোদ ঝরে পড়ে প্রতিদিনের মতোই —
না বেশী উজ্জ্বল, না কম মলিন।
চাঁদ ওঠে, সূর্য নামে, ঘড়ির কাঁটা ঠিকঠাক ঘুরে,
তবুও কোথাও এক জায়গায় কিছু যেন হারিয়ে যায়।

তারা হয়তো এখনো হাঁটে দু’জন,
দু’জনার ছায়া পাশাপাশি পড়ে —
কিন্তু ছায়ার ভিতর আর কায়া থাকে না।
তাদের কথাগুলো থেমে গেছে কোনো এক অনুচ্চারিত বাক্যের শেষে, যেখানে “থাকো” আর “ফিরে আসো”এর মাঝখানে জমে আছে অসংখ্য নীরবতার স্তর।

একদিন হঠাৎ দেখা মেলে কোনো পুরোনো দরজায়,
বাতাসে ভেসে আসে পরিচিত গন্ধ —
শিউলি ফুলের, কফির, অথবা ভেজা কাগজের।
তখন মনে হয়, তারা ছিল, তারা আছে,
শুধু সময়ের অন্য পাশে,
যেখানে হাত বাড়ালেও সময়ের স্পর্শ পাওয়া যায় না।

আমরা শিখে যাই তখন —
ভালোবাসা কখনও শেষ হয় না,
শুধু জায়গা বদলায়।

ভালোবাসা আদতে থেকে যায় বুকের ভেতর কোনো গোপন লোহার সিন্দুকে –
যার চাবি আমরা হারিয়ে ফেলি ইচ্ছে করেই।
ওখানে থাকে তাদের হাসি, চোখের জল,
অলিখিত চিঠি, না-পাঠানো ক্ষমা,
আর এক পলক দেখতে চাওয়ার অসমাপ্ত আকুতি।

আমরা সবাই শেষ পর্যন্ত
নিজ নিজ শিউলি বৃক্ষতলায় আটকে যাই —
নিজস্ব নীরবতার ভেতর যেখানে কেউ ফেরে না আর।

তবুও কিছু থাকে,
যা অদৃশ্য, অমোচনীয়,
চিরস্থায়ী ভালোবাসার রূপে।