
রুহুল আমিন মন্ডল : নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত হঠাৎ গজিয়ে ওঠা নেতাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এর পেছনে দায়ীও মান্নান ও তার পুত্র সজীব। বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের চেয়ে বেশি কদর বেড়েছে বিতর্কিত ও ডোনারদের। উপজেলার কাঁচপুর ও পিরোজপুর নামে দুটি ইউনিয়নকে তুলে দিয়েছে বিতর্কিতদের হাতে। যেখানে দূরে সরে যাচ্ছে বিএনপির রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা বিএনপির সদস্য বিএম ডালিম, সদস্য মাসুম রানা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান( সাবেক জাতীয় পার্টি, খোকার ঘনিষ্ট লোক), জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিডিআর ও জামপুরের আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা গোলজার হোসেন প্রধান হয়ে ওঠেছে মান্নানের অন্যতম হাতিয়ার। মান্নান সজীব পিতা পুত্রের কাছে এখন ত্যাগী নেতাকর্মীরা বিতাড়িত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনী যাবতীয় কার্যক্রমে অগ্রাধিকার পাচ্ছে এসব ব্যক্তিরা হাইব্রীড নেতা ও কর্মীরা।
নেতাকর্মীরা জানায়, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছর কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক রুমী ও কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোমেন খান। কিন্তু হুট করে সরকার পতনের পর মান্নানের ঘনিষ্ঠজন বনে যায় বিএম ডালিম। পুরো কাঁচপুরের যাবতীয় বিষয়ে ডালিম হয়ে ওঠেছে হর্তাকর্তা। একই সঙ্গে ডালিমকে সিদ্ধিরগঞ্জের খবরদারীতে নামিয়েছে মান্নান। এ নিয়ে সেলিম হক ক্ষুব্দ হলেও তাকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছেনা মান্নান ও সজীব।
একইভাবে পিরোজপুর ইউনিয়নের যাবতীয় খবরদারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মাসুম রানার হাতে। জামপুর ইউনিয়নের খবরদারী এখন আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতি করা বিতর্কিত গোলজার হোসেন প্রধানের হাতে। দুজনই অঢেল অর্থের মালিক। তারা মান্নানের নির্বাচনে অর্থ ব্যয় করছে বলে তারাই এখন মান্নানের ঘনিষ্ঠজন। কিন্তু রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনো জায়গা পাচ্ছে না মান্নানের সুদৃষ্টিতে। সঙ্গে আছে জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিডিআরও।
মোগরাপাড়াসহ চৌরাস্তা এলাকার সকল বৈধ অবৈধ সেক্টর থেকে চাঁদাবাজিতে মাতোহারা আতাউর রহমান। সরকার পতনের পর চাঁদাবাজির দায়ে সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও দমে যায়নি আতাউর রহমান। ফুটপাত থেকে শুরু করে পরিবহন সেক্টর ও পরিবহন স্ট্যান্ড থেকেও চাঁদাবাজি করছে আতাউর রহমান। আতাউর ছিল জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে খোকার খুব কাছের লোক এবং তার ছেলে ছিল যুবলীগের কর্মী কায়সার হাসনাতের ঘনিষ্ঠ লোক। বিগত ১৫ বছির আওয়ামী লীগের দোসর রফিকুল ইসলাম নান্নুর ঘনিষ্ঠ হয়ে বিশাল সম্মদের মালিক হয়েছে আতাউর রহমান। নান্নুর সাথে আতাত ও জাতীয় পার্টির খোকার সাথে তোষামোদ এবং তার ছেলে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিল বিধায় জেলে যেতে হয়নি তাকে।তবে ৫ অগাস্টের পর যৌথ বাহিনী তাকে জেলে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা এখনই ধারণা করছে মান্নান এমপি হলে এসব বিতর্কিত ব্যক্তিরাই থাকবে মান্নানের চারপাশে। যেখানে ত্যাগী নির্যাতিত নেতাকর্মীরা থাকবে উপেক্ষিত। কিন্তু সুযোগ পেলে মান্নানকে ভোটের মাধ্যমে জবাবটা ঠিকই দিয়ে দিবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা। কারন এখানে হেভিওয়েট দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন নির্বাচনে রয়েছে।
রুহুল আমিন মন্ডল 




















