
নারায়ণগঞ্জ – ৩ আসনে (সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ) আজহারুল ইসলাম মান্নান বিএনপির সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর থেকে পক্ষে বিপক্ষে উত্তাল নির্বাচনী এলাকা। শোকজ ও বহিস্কারের ঝড় উঠেছে ইতিমধ্যে। মান্নানের মনোনয়ন বাতিল করে পুনবিবেনার জন্য চলছে আন্দোলন সংগ্রাম, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল।
এখন প্রশ্ন হলো দল তো ৮ জনকে মনোনয়ন দিবে না। মান্নানকে বাতিল করে যদি আবারো ১ জনকে মনোনয়ন দেয় আবার যদি পুনবিবেনার প্রশ্ন ওঠে দল তখন কি করবে?
আরেকটা প্রশ্ন হলো এ মুহূতে মান্নানের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী কে? এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক রেজাউল করিমের সমর্থকরা বলবে রেজাউল করিমের নাম, গিয়াসউদ্দিনের সমর্থকরা বলবে গিয়াসউদ্দিনের নাম, অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সমর্থকরা বলবে মামুন মাহমুদের নাম, অধ্যাপক ইমতিয়াজ বকুলের নাম বলবে তার সমর্থকরা, এসএম ওয়ালিউর রহমানের সমর্থকরা আপেলের নাম এবং মুজাহিদ মল্লিকের নাম বলবে মুজাহিদের নাম। সবাই মিলে কি একজনের নাম প্রস্তাব করবে? কখনো না! এটা চিন্তা করাও অসম্ভব। দলতো আগেই বলেছে দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারিদেরকেই মনোনয়ন দিবে। সেদিক বিবেচনা করেই হয়তো মান্নানকে মনোনীত করেছে।
অধ্যাপক রেজাউল করিমের ব্যাপারে বিরোধীশিবিরের প্রথম অভিযোগ হলো তিনি সংস্কারপন্থী। দ্বিতীয়ত বয়সের কারনে তিনি নিজে নিজে চলাফেরা হরতে কষ্ট হয়। তৃতীয়ত তিনি তিন তিন বার বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ও। আবারো কেন তাকেই এমপি হতে হবে? তাঁর কি উচিৎ নয় নতুনদের জায়গা ছেড়ে দেওয়া। যদি ছেড়ে দিতেন তবে তাঁর মর্যাদা অন্যরকম হতো। আজকে যে মান্নানকে তিনি অশিক্ষিত, বর্বর বলছেন মান্নান তো তারই সৃষ্টি। তিনিই তো মান্নানকে উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি বানিয়েছেন। তখন কি মান্নান শিক্ষিত ছিল?
আসি অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিনের কথায়। বিএনপি টাকা দিয়ে মনোনয়ন বিক্রি করে, এমন বক্তব্যের পর দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিয়েছে সে কথায় আসব না। তিনিও তো বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তারও কি নতুনদের জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত না? অন্য দোষগুণ নাইবা বললাম, অনেকের ধারনা তিনি বাদ পড়েছেন আঞ্চলিকতার কারনে। সিদ্ধিরগঞ্জে ভোটার কম তাই সোনারগাঁ থেকে মনোনীত করেছেন। আবার অনেকের প্রশ্ন ১৭ বছর তারা কোথায় ছিলেন?
এসএম ওয়ালিউর রহমান আপেল যোগ্য হলেও বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে তার অবদান কি? এ প্রশ্ন আপেল বিরোধীদের। তাদের কথা হলো যুব উন্নয়নের সাবেক এ ডিজি অবসর হয়ে যদি রাজনীতিতে মনোনিবেশ না করে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করতেন তাহলে তিনি সকলের মাথার তাজ হয়ে থাকতেন।
বিএনপির এক জনসভায় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে বরিশাইল্লা বলে বিস্ফোরক মন্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় ভোটাররা। তিনিও সিদ্ধিরগঞ্জের আঞ্চলিকতায় পড়েছেন। কদিন আগেও মান্নান ব্লকে থাকা এ প্রার্থী নিজের প্রচার প্রচারনায় তারই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়েছেন এ অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। জেলা বিএনপির এ আহবায়ক ৫ আগষ্টের পর দলীয় পরিচয়ে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক হয়েছেন এ অভিযোগ তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে। বাকিদের কথা অন্য লেখায় বলবো। বলবো আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নের বিস্তারিত।
গাজী মোবারক থেকে নে
Reporter Name 



















