Dhaka 10:59 pm, Saturday, 24 January 2026

সিলেটে সরকারি খাস জমির উচ্ছেদ অভিযান থেমে গেল কেন?

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:46:36 am, Friday, 28 November 2025
  • 376 Time View

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে সরকারি খাস জমির উচ্ছেদ অভিযান থেমে গেল কেন? প্রশ্ন নাগরিক সমাজের, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীরব কেন?  জানতে চায় সিলেটবাসী।

সিলেট নগরীর দিন দিন সরকারি খাস জমি দখলের ঘটনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি কয়েকদিন আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ড এবং শাহপরান থানার আওতাধীন বহর মৌজা (জে.এল নং–৭০), খাদিমনগর মৌজা (জে.এল নং–৭১) এবং দেবপুর মৌজা (জে.এদঊূূূা১ল নং–৯৬৮১) অধীনস্থ লিজকৃত চা–বাগানের সরকার নির্ধারিত খাস জমিতে অবৈধ দখল, পাহাড়–টিলা কাটা ও বানিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন করে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইসলামপুর মেজরটিলা, মেজরটিলা টেক্সটাইল রোড, সৈয়দপুরের জজ এরিয়া, সাবেক ৯ নং উপজাতি কুলি বস্তি (বর্তমানে উত্তর মোহাম্মদপুর–ফাতেমা নগর ও চানপুরী বস্তি) এলাকাসমূহে সরকারি জমির উপর টিনের ঘর, ফাঁকা ওয়ালের ভবন ও বহুতল অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিছু স্থানে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি বেচা–বিক্রি, বাতিল লিজ দলিল ব্যবহার, জাল দলিলের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং অনুমোদন ছাড়াই টিলা ও পাহাড় কেটে বসতি সম্প্রসারণের চিত্র উঠে এসেছে।

বিশেষ করে বি.আই.ডি.সি বহর কলোনীর শেষ সীমানা পর্যন্ত ‘আল বারাকা গ্রীন সিটি’ নাম ব্যবহার করে অবৈধ ভবন নির্মাণ ও ভূমি দখল অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দখল–প্রক্রিয়ার পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা, বহিরাগত প্রভাবশালী মহল এবং শিক্ষিত–সচেতন পরিচয়ে সংগঠিত একটি চক্র ভূমি ভাগ–বাটোয়ারা ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সুবিধা হাসিল করছে—এমন তথ্য সামনে এসেছে।

অভিযানে প্রশাসন প্রথম ধাপে খাদিমপাড়া ২ নং রোড, আনছার ক্যাম্প–বাংলার পাশের কয়েকটি অবৈধ ঘর উচ্ছেদ করে অপসারণ করে এবং দখলকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সরে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও দখল–কার্যক্রম থামেনি; বরং নতুন নতুন ঘর–বাড়ি তৈরি হচ্ছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, সরকারি খাস জমিতে বর্তমানে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ ঘর–বাড়ি অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে, যার আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, “উচ্ছেদ অভিযানটি হঠাৎ থেমে গেল কেন? কার স্বার্থে প্রশাসনের কার্যক্রম স্থগিত হলো—এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে।”

এদিকে ভূমি ও পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠন জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন এবং অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম অপরাধ বিচিত্রা, ক্রাইম তালাশ প্রতিদিন, ক্রাইম তালাশ সিলেট বিভাগ থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে—
অবৈধ দখলের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা, জাল দলিল চক্র চিহ্নিত এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন জরুরি।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে, দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দখল–বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত চক্রকে আইনের আওতায় আনা এবং পরিবেশ–সংকটাপন্ন টিলা–পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার।

নাগরিকদের দাবি

✔ উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা
✔ সরকারি জমি উদ্ধার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা
✔ জাল লিজ ও দলিল চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
✔ টিলা–পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ আইন প্রয়োগ

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sadaia jahan

Popular Post

সিলেটে সরকারি খাস জমির উচ্ছেদ অভিযান থেমে গেল কেন?

Update Time : 06:46:36 am, Friday, 28 November 2025

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে সরকারি খাস জমির উচ্ছেদ অভিযান থেমে গেল কেন? প্রশ্ন নাগরিক সমাজের, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীরব কেন?  জানতে চায় সিলেটবাসী।

সিলেট নগরীর দিন দিন সরকারি খাস জমি দখলের ঘটনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি কয়েকদিন আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ড এবং শাহপরান থানার আওতাধীন বহর মৌজা (জে.এল নং–৭০), খাদিমনগর মৌজা (জে.এল নং–৭১) এবং দেবপুর মৌজা (জে.এদঊূূূা১ল নং–৯৬৮১) অধীনস্থ লিজকৃত চা–বাগানের সরকার নির্ধারিত খাস জমিতে অবৈধ দখল, পাহাড়–টিলা কাটা ও বানিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন করে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইসলামপুর মেজরটিলা, মেজরটিলা টেক্সটাইল রোড, সৈয়দপুরের জজ এরিয়া, সাবেক ৯ নং উপজাতি কুলি বস্তি (বর্তমানে উত্তর মোহাম্মদপুর–ফাতেমা নগর ও চানপুরী বস্তি) এলাকাসমূহে সরকারি জমির উপর টিনের ঘর, ফাঁকা ওয়ালের ভবন ও বহুতল অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিছু স্থানে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি বেচা–বিক্রি, বাতিল লিজ দলিল ব্যবহার, জাল দলিলের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং অনুমোদন ছাড়াই টিলা ও পাহাড় কেটে বসতি সম্প্রসারণের চিত্র উঠে এসেছে।

বিশেষ করে বি.আই.ডি.সি বহর কলোনীর শেষ সীমানা পর্যন্ত ‘আল বারাকা গ্রীন সিটি’ নাম ব্যবহার করে অবৈধ ভবন নির্মাণ ও ভূমি দখল অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দখল–প্রক্রিয়ার পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা, বহিরাগত প্রভাবশালী মহল এবং শিক্ষিত–সচেতন পরিচয়ে সংগঠিত একটি চক্র ভূমি ভাগ–বাটোয়ারা ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সুবিধা হাসিল করছে—এমন তথ্য সামনে এসেছে।

অভিযানে প্রশাসন প্রথম ধাপে খাদিমপাড়া ২ নং রোড, আনছার ক্যাম্প–বাংলার পাশের কয়েকটি অবৈধ ঘর উচ্ছেদ করে অপসারণ করে এবং দখলকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সরে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও দখল–কার্যক্রম থামেনি; বরং নতুন নতুন ঘর–বাড়ি তৈরি হচ্ছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, সরকারি খাস জমিতে বর্তমানে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ ঘর–বাড়ি অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে, যার আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, “উচ্ছেদ অভিযানটি হঠাৎ থেমে গেল কেন? কার স্বার্থে প্রশাসনের কার্যক্রম স্থগিত হলো—এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে।”

এদিকে ভূমি ও পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠন জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন এবং অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম অপরাধ বিচিত্রা, ক্রাইম তালাশ প্রতিদিন, ক্রাইম তালাশ সিলেট বিভাগ থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে—
অবৈধ দখলের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা, জাল দলিল চক্র চিহ্নিত এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন জরুরি।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে, দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দখল–বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত চক্রকে আইনের আওতায় আনা এবং পরিবেশ–সংকটাপন্ন টিলা–পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার।

নাগরিকদের দাবি

✔ উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা
✔ সরকারি জমি উদ্ধার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা
✔ জাল লিজ ও দলিল চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
✔ টিলা–পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ আইন প্রয়োগ