
তানজিনা লিপি: বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে র্যাব কর্তৃক নির্যাতন ও মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার চেয়ে মামলা দায়ের করেছে চিকিৎসক ইশরাত রফিক ওরফে ডা. ঈশিতা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) ঢাকার ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে তিনি এ মামলার আবেদন করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাদী পক্ষের আইনজীবী শেখ কানিজ ফাতেমা।
ঐ মামালায় ঈশিতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাবের) সাবেক লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং ডিরেক্টর খন্দকার আল মঈনসহ ২০ জনের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।
অন্য আসামিরা হল- র্যাব হেডকোয়ার্টারে আইটি স্পেশালিষ্ট রাকিব, র্যাব হেডকোয়ার্টারে স্কোয়াড্রন লিডার আলী আশরাফ, র্যাব হেডকোয়ার্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক খোন্দকার আমির আলি, উপ-পরিদর্শক মঈনুল হোসেন, উপ-পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান, উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানা, সহকারী উপ-পরিদর্শক মাহবুব রহমান, কনস্টেবল অপূর্ব চন্দ্র সূত্রাধর, কনস্টেবল মতিউর রহমান, কনস্টেবল মশিউর রহমান, আনসার সাজেদা বেগম, আনসার সালমা আক্তার, নাসির উদ্দিন, সাজ্জাদ হোসেন, বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মমিনুল ইসলাম, স্কোয়াড্রন লিডার শহীদ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ জুলাই র্যাব সদস্যরা চিকিৎসক ঈষিতাকে তার নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর র্যাবের হেডকোয়ার্টারে ভুক্তভোগীকে পাঁচ দিন ধরে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে।ঐ বছরের পহেলা আগস্ট র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ভুক্তভোগীকে উপস্থিত করে মাদক ও জাল সার্টিফিকেটসহ পৃথক তিনটি মামলা দিয়ে তাকে থানায় স্থানান্তর করা হয়। পৃথক ৩ মামলায় ভুক্তভোগীকে আটক রেখে একাধিকবার রিমান্ডেও নেওয়া হয়। ঐ মামলায় দীর্ঘ ১৪ মাস কারাভোগ শেষে ঈশিতা জামিনে মুক্তি পায়।
আরও বলা হয়, চিকিৎসক ঈষিতার বিরুদ্ধে করা পৃথক ৩ মামলায় সংবিধান বহির্ভূত আইন পরিপন্থী বলে উচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঘটনার সত্যতা বের করার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। পরবর্তীতে এই মামলাগুলোর কারণে তার ক্যারিয়ার, জীবন দুর্বিষহ উঠেছে। গত ৫ বছর ধরে ভুক্তভোগী আর্থিক, সামাজিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ঈষিতা বলে, ‘এই সব মামলার কারণ আমার জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার ক্যারিয়ারও ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি আদালত৭০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে চিকিৎসক ডা. ঈষিতার মামলার আবেদনের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।’
Reporter Name 



















