Dhaka 12:37 am, Sunday, 25 January 2026

৪ আইনজীবী অন্যান্য বিএনপির নেতাদের বৈষম্য মামলায় ফাসিয়েছে

উম্মে হানি মায়া : বিএনপি থেকে যেসব নেতারা বহিষ্কৃত ছিল ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরবর্তীতে সে সব নেতাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামী করা হয়েছিল। সেসব নেতারা এবার বিএনপিতে ফিরেছে। মুলত এসব নেতারা যাতে বিএনপির রাজনীতিতে ফিরতে না পারে সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে খোদ বিএনপিরই একটা অংশের নেতারা। ঐ সময় বিএনপির জেলা ও মহানগরসহ থানা বিএনপির নেতৃত্বে থাকা শীর্ষ ৪ জন আইনজীবী  নেতা এসব মামলা দায়েরে প্রধান হোতা।

সম্প্রতি মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সাবেক কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভুঁইয়া, গোলাম নবী মুরাদকে বিএনপির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ ১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টুকে বিএনপিতে ফিরিয়েছে। তবে এসব নেতারা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামী করেছে এই ৪ আইনজীবী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামী করে মামলা বানিজ্যে জড়িত ছিল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভুঁইয়া ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান। ঐ সময় সদর থানা, বন্দর থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ফতুল্লা থানা নিয়ন্ত্রণ করত উপরোক্ত বিএনপির ৪ নেতা।

তৎকালীন সময়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের ঘনিষ্ঠজন ছিল বারী ভুঁইয়া। ফলে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সরাসরি এজাহার নিজ হাতে তৈরি করি দিত বারী ভুঁইয়া। সেই এহাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ী শিল্পপতি আইনজীবীসহ নিরীহ মানুষজনকে আসামী করত বারী ভুঁইয়া। যেসব মামলাগুলো থানা পুলিশ সরাসরি গ্রহণ করেনি সেইসব মামলাগুলো কোর্ট থেকে বিচারকদের জিম্মি করে এফআইআর রুজুর আদেশ নিত বারী ভুঁইয়া। একই কাজ করত সদর থানা ও ফতুল্লার অনেক মামলা আনোয়ার প্রধানের হাত ধরে রুজু হয়েছে।

সাখাওয়াত, টিপু, আনোয়ারের মাধ্যমে আতাউর রহমান মুকুল, হান্নান সরকার, সুলতান, মুরাদদের বিরুদ্ধে মামলায় আসামী করা হয়। মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহিন আহমেদ সৌরভকেও বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামী করে টিপু। ঐ সময় শাহিন আহমেদ সৌরভ সরাসরি গণমাধ্যমে টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। মনিরুল আলম সেন্টুকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এবং তার কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে মামলায় আসামী করিয়েছে বারী ভুঁইয়া। বর্তমানে ঐ সব বহিষ্কৃত নেতারা এখন বিএনপির মুলধারায় ফিরেছে।

তাছাড়া এই ৪ আইনজীবীর সাথে সম্পৃক্ত আছে আইনজীবী সমিতির সভাপিতি সরকার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। সে সাংবাদিকদেরও ফাসিয়ে দিয়ে ভুতা সাংবাদিক আখ্যা দিয়েছে। পত্রিকা ও পোর্টালের সম্পাদক কিভাবে ভুয়া সাংবাদিক হয় তা খন্ডাতে হবে হুমায়ুন কবিরকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sadaia jahan

Popular Post

৪ আইনজীবী অন্যান্য বিএনপির নেতাদের বৈষম্য মামলায় ফাসিয়েছে

Update Time : 05:51:14 pm, Friday, 2 January 2026

উম্মে হানি মায়া : বিএনপি থেকে যেসব নেতারা বহিষ্কৃত ছিল ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরবর্তীতে সে সব নেতাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামী করা হয়েছিল। সেসব নেতারা এবার বিএনপিতে ফিরেছে। মুলত এসব নেতারা যাতে বিএনপির রাজনীতিতে ফিরতে না পারে সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে খোদ বিএনপিরই একটা অংশের নেতারা। ঐ সময় বিএনপির জেলা ও মহানগরসহ থানা বিএনপির নেতৃত্বে থাকা শীর্ষ ৪ জন আইনজীবী  নেতা এসব মামলা দায়েরে প্রধান হোতা।

সম্প্রতি মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সাবেক কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভুঁইয়া, গোলাম নবী মুরাদকে বিএনপির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ ১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টুকে বিএনপিতে ফিরিয়েছে। তবে এসব নেতারা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামী করেছে এই ৪ আইনজীবী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামী করে মামলা বানিজ্যে জড়িত ছিল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভুঁইয়া ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান। ঐ সময় সদর থানা, বন্দর থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ফতুল্লা থানা নিয়ন্ত্রণ করত উপরোক্ত বিএনপির ৪ নেতা।

তৎকালীন সময়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের ঘনিষ্ঠজন ছিল বারী ভুঁইয়া। ফলে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সরাসরি এজাহার নিজ হাতে তৈরি করি দিত বারী ভুঁইয়া। সেই এহাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ী শিল্পপতি আইনজীবীসহ নিরীহ মানুষজনকে আসামী করত বারী ভুঁইয়া। যেসব মামলাগুলো থানা পুলিশ সরাসরি গ্রহণ করেনি সেইসব মামলাগুলো কোর্ট থেকে বিচারকদের জিম্মি করে এফআইআর রুজুর আদেশ নিত বারী ভুঁইয়া। একই কাজ করত সদর থানা ও ফতুল্লার অনেক মামলা আনোয়ার প্রধানের হাত ধরে রুজু হয়েছে।

সাখাওয়াত, টিপু, আনোয়ারের মাধ্যমে আতাউর রহমান মুকুল, হান্নান সরকার, সুলতান, মুরাদদের বিরুদ্ধে মামলায় আসামী করা হয়। মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহিন আহমেদ সৌরভকেও বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামী করে টিপু। ঐ সময় শাহিন আহমেদ সৌরভ সরাসরি গণমাধ্যমে টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। মনিরুল আলম সেন্টুকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এবং তার কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে মামলায় আসামী করিয়েছে বারী ভুঁইয়া। বর্তমানে ঐ সব বহিষ্কৃত নেতারা এখন বিএনপির মুলধারায় ফিরেছে।

তাছাড়া এই ৪ আইনজীবীর সাথে সম্পৃক্ত আছে আইনজীবী সমিতির সভাপিতি সরকার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। সে সাংবাদিকদেরও ফাসিয়ে দিয়ে ভুতা সাংবাদিক আখ্যা দিয়েছে। পত্রিকা ও পোর্টালের সম্পাদক কিভাবে ভুয়া সাংবাদিক হয় তা খন্ডাতে হবে হুমায়ুন কবিরকে।