Dhaka 9:39 am, Tuesday, 10 February 2026

ঢাকা ওয়ারিতে অনুমোদনবিহীনভাবে বহুতলা ভবন নির্মাণ

সাদিয়া জাহান : রাজধানীর ওয়াড়ী এলাকায় একাধিক বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীর অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদনবিহীনভাবে বহুতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ অভিযোগ উঠেছে ৭ নং শশী মোহন বসাক লেন, বনগ্রাম ওয়াড়ী এলাকায় ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনসুর আহমেদ রাজউকের নিয়ম ও অনুমোদন অমান্য করে বহুতলা ভবন নির্মাণে ব্যস্ত রয়েছে।রাজউক জোন ৭ এর একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছে, রাজধানীতে বেআইনি ভবন নির্মাণ যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। একাধিক ইমারত পরিদর্শক দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, “আমাদের নির্দেশনা মানে না কেউ। মোবাইল নম্বরও খুব কম পাওয়া যায়, তাই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত কঠিন।” কর্মকর্তারা আরও জানায়, বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় উচ্ছেদ অভিযান কার্যত বন্ধ রয়েছে, ফলে অনেক এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম চলাচল অব্যাহত থাকে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, “মনসুর আহমেদের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলে, “রাজউকের নিয়মকানুন এখানে কার্যকর নয়। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু এখনো কোনো তদারকি হয়নি। উচ্ছেদ অভিযানও বন্ধ রয়েছে।”

রাজউক সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের বেআইনি নির্মাণ শুধু ওয়ারী এলাকায় নয়, ঢাকার বিভিন্ন পুরনো ও আবাসিক এলাকায় বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সীমিত কর্মী এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব কাজ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক কর্মকর্তা বলে, “কোনও ভবন নির্মাণ শুরু হলে আমরা চাপে পড়ি। উচ্চ আদালতে মামলা থাকলে আমরা কার্যত সেখানে যেতে পারি না।”

শহর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছে, রাজধানীতে নিয়মিতভাবে বেআইনি নির্মাণের ঘটনা মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে থেমে গেছে। একজন বিশেষজ্ঞ জানায়, “যখন আইন অমান্য করা এক ধরনের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গণ্য হয়, তখন নিয়ম মানার প্রয়োজনীয়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যায়।”

এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছে, এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ এলাকায় জনসংখ্যা ঘনত্ব এবং যানজট বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয়রা আশা করছে, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই ধরনের নির্মাণ বন্ধ করবে।

রাজউকের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, “আমরা চাই এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হোক। কিন্তু মামলার জটিলতা, সীমিত কর্মী, এবং স্থানীয় ক্ষমতাধরদের চাপ আমাদের কার্যক্রমকে সীমিত করছে।”

ওয়ারীর এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির নয়। এটি রাজধানীর বিভিন্ন পুরনো ও আবাসিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণের একটি প্রতিচ্ছবি। রাজউক সক্রিয়ভাবে তদারকি করতে না পারে, তবে আইনের শাসন কার্যকর করা কঠিন হবে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছে, রাজউকের তদারকি না থাকায় অনেকে আরও অনুপ্রাণিত হচ্ছে তাদের সম্পত্তি বেআইনি উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে। ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, রাজধানীর পুরনো এলাকা ও আবাসিক নিরাপত্তা বিপন্ন হবে। স্থানীয়রা এবং প্রশাসনিক সূত্রে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে, রাজউক জোন-৭ যথাযথ তদারকি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অবৈধ নির্মাণ রোধ করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর ওয়ারীতে বেআইনি বহুতলা ভবন নির্মাণ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুইয়ের সমন্বয়ে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে পুরনো আবাসিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা গুরুতরভাবে প্রভাবিত হতে পারে। অবৈধভাবে গড়ে উঠছে ভবন দায়িত্বহীনতার কারনে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sadaia jahan

ঢাকা ওয়ারিতে অনুমোদনবিহীনভাবে বহুতলা ভবন নির্মাণ

Update Time : 03:45:43 pm, Sunday, 25 January 2026

সাদিয়া জাহান : রাজধানীর ওয়াড়ী এলাকায় একাধিক বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীর অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদনবিহীনভাবে বহুতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ অভিযোগ উঠেছে ৭ নং শশী মোহন বসাক লেন, বনগ্রাম ওয়াড়ী এলাকায় ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনসুর আহমেদ রাজউকের নিয়ম ও অনুমোদন অমান্য করে বহুতলা ভবন নির্মাণে ব্যস্ত রয়েছে।রাজউক জোন ৭ এর একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছে, রাজধানীতে বেআইনি ভবন নির্মাণ যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। একাধিক ইমারত পরিদর্শক দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, “আমাদের নির্দেশনা মানে না কেউ। মোবাইল নম্বরও খুব কম পাওয়া যায়, তাই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত কঠিন।” কর্মকর্তারা আরও জানায়, বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় উচ্ছেদ অভিযান কার্যত বন্ধ রয়েছে, ফলে অনেক এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম চলাচল অব্যাহত থাকে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, “মনসুর আহমেদের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলে, “রাজউকের নিয়মকানুন এখানে কার্যকর নয়। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু এখনো কোনো তদারকি হয়নি। উচ্ছেদ অভিযানও বন্ধ রয়েছে।”

রাজউক সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের বেআইনি নির্মাণ শুধু ওয়ারী এলাকায় নয়, ঢাকার বিভিন্ন পুরনো ও আবাসিক এলাকায় বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সীমিত কর্মী এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব কাজ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক কর্মকর্তা বলে, “কোনও ভবন নির্মাণ শুরু হলে আমরা চাপে পড়ি। উচ্চ আদালতে মামলা থাকলে আমরা কার্যত সেখানে যেতে পারি না।”

শহর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছে, রাজধানীতে নিয়মিতভাবে বেআইনি নির্মাণের ঘটনা মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে থেমে গেছে। একজন বিশেষজ্ঞ জানায়, “যখন আইন অমান্য করা এক ধরনের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গণ্য হয়, তখন নিয়ম মানার প্রয়োজনীয়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যায়।”

এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছে, এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ এলাকায় জনসংখ্যা ঘনত্ব এবং যানজট বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয়রা আশা করছে, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই ধরনের নির্মাণ বন্ধ করবে।

রাজউকের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, “আমরা চাই এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হোক। কিন্তু মামলার জটিলতা, সীমিত কর্মী, এবং স্থানীয় ক্ষমতাধরদের চাপ আমাদের কার্যক্রমকে সীমিত করছে।”

ওয়ারীর এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির নয়। এটি রাজধানীর বিভিন্ন পুরনো ও আবাসিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণের একটি প্রতিচ্ছবি। রাজউক সক্রিয়ভাবে তদারকি করতে না পারে, তবে আইনের শাসন কার্যকর করা কঠিন হবে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছে, রাজউকের তদারকি না থাকায় অনেকে আরও অনুপ্রাণিত হচ্ছে তাদের সম্পত্তি বেআইনি উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে। ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, রাজধানীর পুরনো এলাকা ও আবাসিক নিরাপত্তা বিপন্ন হবে। স্থানীয়রা এবং প্রশাসনিক সূত্রে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে, রাজউক জোন-৭ যথাযথ তদারকি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অবৈধ নির্মাণ রোধ করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর ওয়ারীতে বেআইনি বহুতলা ভবন নির্মাণ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুইয়ের সমন্বয়ে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে পুরনো আবাসিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা গুরুতরভাবে প্রভাবিত হতে পারে। অবৈধভাবে গড়ে উঠছে ভবন দায়িত্বহীনতার কারনে।